পর্ণা ব্যানার্জী


তেমন কিছুই বলার নেই ।
স্বপ্নের জগতে পা ফেলি, ঘাসের শিশির বিন্দুতে ভিজে পায়ে । রাত জাগা তারাদের সাথে গল্প করি জ্যোৎস্নার আলোতে, আবার অমাবস্যার কালো অন্ধকারে ! দেখি তাদের খিড়কী থেকে..পাই হাতের নাগালে বহুবার স্বপ্ন শিয়রে । বাস্তব আমাকে ডাক দিয়ে যায় কানে কানে…..অক্ষরের সাথে কাটাকুটি খেলি অনেকভাবে নেড়েচেড়ে । অলঙ্কারিত লেখা নয় । আমি অনবরত খুঁজে চলি মন…..আর তার গভীরতা । তবু আমি নিজেকে সাজাই কখনও Ghosidi, কখনও Nefrititi বা কখনও Cliopetra । আবার রাঙিয়ে তুলি, মুমতাজ দুহিতা জাহানারা হয়ে ।

বেশী কিছু বলতে গেলেই থমকে যাই । মিশে যাই রাতের গভীরে । চন্দনের কাঠ চাই না, পোড়া কাঠের উপর ভরসা আমার । ভবিতব্যের সাথে করি লড়াই….কালি-কলম আর পাতার সাথে করি লুকোচুরি !আমার লেখা, কিছু পত্রিকায় বেরিয়েছে, কিছু ই-ম্যাগাজিনে । নিজের সদ্য প্রকাশিত বই : “AXIOM OF OOMPH” ! বিদেশের কিছু ই-ম্যাগাজিনেও লেখা প্রকাশিত হয়েছে ।“মনের কোণে নিজের কলম” এক কথায় ঠিকানা মনের । যেখানে নিজের কালি-কলম দিয়ে নেড়েচেড়ে, নিজেকে উজাড় করে দিয়ে যাই । বিগত এক বছর ধরে আমি এই পরিবারের সবার স্নেহধন্যা এক সদস্য !!

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
অপ্রকাশিত কথা

অনেকবার প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম
কিন্তু কথাগুলো বারে বারে মনে হয়েছিল তোর হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নেবে না
তাই, চুপ করে থাকাটাই শ্রেয় মনে হয়েছিল-
বোবা শক্তি গ্রাস করেছিল জিহ্বাকে-

সমুদ্রের ধারে,পাহাড়ের চূড়ায়
সূর্যের রাজ্যে, অমাবস্যার আলোকে
জোনাকের মিঠি আলো আঁধারে
জ্বলন্ত চিতায় – ঝর্ণার তরঙ্গে
বাক্স বদলের মুহূর্তে –
নিঃশ্বাসের হরেকরকম উত্থান পতনে
পেয়েছি তোকে নানা ভাবে –

অষ্টাদশীর চাঁদ হয়ে – ঘামে ভেজা নোনতা শরীরে ছুঁয়েছি তোকে বহুবার বাহুডোরে
বুঝিনি আলিঙ্গনের সময়-
আমাদের মাঝে সমান্তরাল ভাবে একটি নদী চাপা নিঃশ্বাস নিয়ে বয়ে চলেছে নির্দ্বিধায়
স্তব্ধতা প্রতিবার হাতছানি দিয়ে ডেকেছে আমাকে – আমি স্তব্ধতাকে অন্তরালে ঢেকে পান্থশালায় পথিকের মতন বসে ছিলাম চাতকের ন্যায় –গা ঢাকা দিয়ে চেতনার গভীরে মিশে গিয়ে
তোর যদি একবার চোখ ফেরে কোনো এক দূর্বল মুহূর্তে-
আমি স্নিগ্ধ হিমবাহ হয়ে বয়ে যাব তোর সর্ব শরীর জুড়ে
যত তেজস্ক্রিয় লাভার উৎক্ষেপণ আছে গিলে নেব সমুদ্রমন্থনের মুহূর্তে, তোর চোখের ভাষায় ডুব দিয়ে

গ্লানিগুলো একরোখা – কলমের কোঁচায় মূর্ছা যায় –“ন্যাকা”
“আমি মোহনা- ওরা ধৃতরাষ্ট্রের মতন অন্ধ, নাকি গান্ধারীর মতন সচেতনতা নিয়ে চোখ বন্ধ
সেটা ঠিক বুঝিনা-
তাই,
তাকিয়ে দেখবে চোখ বুজে মনের দৃষ্টি দিয়ে –
আমার তপ্ত শরীরের নগ্ন উত্তেজক রূপ তোকে কিভাবে পোড়াতে পারে অল্প অল্প করে”
ভিজে যাব আমি তোর দৃষ্টির তেজস্ক্রিয়তায় –উপভোগ করব চোখের কোণায় উত্তেজনার হাসি রেখে
কিন্তু,
মুহূর্ত ... মুহূর্তটাই চাই শুধু একটি বার তোর কাছ থেকে- ছিনিয়ে নেব বিষবৃক্ষের গ্লানি
আমি হব প্রেমের বিষবৃক্ষ – পুড়বো ধিক ধিক করে চন্দন চিতায় নয়- পুড়তে চাই বাঁশঝাড়ের দাবানলে
সব শেষে – পাবি আমাকে –
কোনো ফুটো কলসির কাঁখে ...
“ভরা কলসি কোনো সময় শুষ্ক হয়ে পান্থশালায় তৃষ্ণার্তের অপেক্ষা করবে ...আমার পূর্ণতা সেখানেই হবে”...।।
প্রেম সগরে ডুব দিয়ে –খুঁজে নেব মুক্তরাশি –মুছে নেবো আমার অশ্রু ভেজা আঁচলে ......
খোদাই করে রাখব মুক্তর মাঝে কিছু না বলা কথা- অস্পৃশ্য আমি ও আমার চেতনা –
মুক্তমালায় গেঁথে নিস –ভালোবেসে ...।।

সাদা আমি, কালো আমি

আমি ডান হাতে রাখি সত্যকে আর বাম হাতে রাখি মিথ্যেকে ।
জলের সাথে তেল মিশে যাওয়ার মতন তাদের সযত্নে মিশিয়ে রাখি একান্তে ।
শব্দ প্রতিশব্দ ধ্বনি প্রতিধ্বনি - কোনোটাই ওদের জন্য নয় ।
সত্য হোক বা মিথ্যে, তারা সব থেকে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাঁচে -
তাই তাদের যেই পাত্রে রাখবে, তারা সেই রূপ ধারণ করে ।
টুকরো অবক্ষয়কে অবাঞ্ছিত প্রতিবিম্ব ভেবে এগিয়ে চলার প্রযত্ন করে ।
নির্বিকার এদের দুজনার চেতনা - তাই যত বার প্রতিধ্বনিত হয় একে অপরের নাম,
ততবার ভুল শব্দ ফিরে আসে উল্টো দিক থেকে। অদ্ভুত তাই না ? হতবাক ইন্দ্রিয় ।
খেলার রচয়িতা যেই হোক না কেন, তাকে বে বারে মিথ্যা আর সত্যকে তেলে জলে পোষণ করতে হয় ।
এটা কি চাতুরতা ? নাকি নির্বুদ্ধিতা ? নাকি মনের হটকারিতা ?
যে অবক্ষয় কোনোদিনও মিশে যাবে না, তাকে সবার সামনে তুলে ধরার কারণ কি ?
মনের ইচ্ছে ? নাকি ব্যথার উপশম ?
আগুণ দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে হৃদয়ের গভীরে -
যেখানে সত্য আর মিথ্যে জড়াজড়ি করে,
এক বিছানায় শান্তির ঘুম দিতে চায় নরম পরশে, স্নেহের আবেশে !
বোবা শক্তির কান্নায় ভেঙে পড়ে বারংবার - চায় না সত্য মিথ্যের কাটাছেঁড়া ।
"আমি মিথ্যেতেও আছি, আমি প্রতিচ্ছবিতেও আছি,
আমি মন্দের আর এক নাম,
আমার দ্বৈত রূপ - সাদা আমি, কালো আমি -
বর্নাঢ্য চেতনার গল্পগাঁথার মথ্যে শব্দ আমি"।
যে চেনার আমাকে চিনে নাও,
গল্পের তাৎক্ষণিক চরিত্রে আমার মিথ্যে সত্যি অবয়ব এঁকে যাও ।

আয়ু

একটু প্রসাধনীর জন্য কিছু ফুল চাই,
অঞ্জলি ভরে গুছিয়ে নেবো -
ফুটপাথ জুড়ে ছড়ানো গোলাপ জলের আতর,
ছিন্নভিন্ন দেহচর্চা - উত্তর দিকে মাথা দিয়ে গা এলিয়ে পড়া,
মুণ্ডচ্ছেদ অনিবার্য -
দ্বিধার পাথর চাপা বুক - নিরবতা আলগোছা ভোগের মাঝে, ভাষার স্তন খুঁজে চলে,
স্বরহীন কণ্ঠস্বর কুয়াশার জলে ঢেউ খেলে -
শ্মশানের দম্গুলি মাতালের মত ঝিমোচ্ছে -
পড়ন্ত পোড়া ধোঁয়া - আকাশের দিকে চেয়ে থাকে একদৃষ্টে !
প্রতি মুহুর্তে চলে দমন ।
প্রতি মুহুর্তে ফেলে দীর্ঘশ্বাস ।
কেউটেটা জড়িয়ে শরীর - বিশের দংশন ক্ষনিকেব্র দূর,
ঘাস পোকাদের হাঁটাহাঁটি বাহান্ন পথ পেরিয়ে - তিপ্পান্নোর দিকে ।
সকালের ব্যস্ত কাগজে বাস্তুহারাদের কান্না,
ভুলতে বসেছি পাবলো পিকাসো - মোনালিসা,
বন্ধ্যা জঠরে কফি কাপের তুফান - কাগজে কলমে নেই অন্তিম ইচ্ছে প্রকাশ,
কফিন বন্দী ব্যস্ত মগজ - আত্মার আয়ু খোঁজে শূণ্যতায় ।

আমার আমি

একটা ছেঁড়া চাদর আর কিছু শুকনো আদ্রতা
ভাবঘুরে রোদের আঙিনায়
ছায়া ঘেরা ঘেরাটোপের বদলে খোঁজে মুখ লুকাবার সময়!
ভালো বলো, মন্দ বলো "আমার সত্য আমি, আমার মিথ্যা আমি"!!

বালাই ষাঠ - মরনোত্তরের পথে বিশাল বাধা -
ওরা এটাই জানে না!
আমার ছায়া কিন্তু আমার নয় -

হাওড়ার পান্থশালা থেকে পা বাড়ালেই - ক্যাকটাসের খোঁচায় রক্তাক্ত শরীর
ব্রিজ ধরে স্লোগানের সাথে পথ চলা - "দীর্ঘজীবি হোক"
হৃদযন্ত্র, পাকস্থলী, কিডনি, মস্তিস্কের কিছুটা ঘিলু -
শব দেহের থেকে খুলে প্লাস্টিকে করে মোড়া আমার কাঁধের ঝোলায় -

অটোপসি করবে কে?? পান্থশালার চাবিটাও যে আমার বুক পকেটে
হৃদযন্ত্রের জায়গায় ওটা জায়গা করে নিয়েছে !!

12 comments:

  1. kobiporichiti khub khub bhalo laglo... ar lekha gulo to boraborer motoi durdanto

    ReplyDelete
  2. পর্না কি অদ্ভূত অনুভূতিময় তোমার লেখনি ভীষন মনকাড়া....শুভেচ্ছা রইল

    ReplyDelete
  3. মন কে নাড়া দেয় তোমার লেখা গুলো.....অভিনন্দন

    ReplyDelete
  4. ভীষণধারালো লেখা , যতবার পড়ি ততবার ই আপ্লুত হই

    ReplyDelete
  5. ভীষণ সুন্দর অনুভূতির কবিতা......ভাল লাগলো ।

    ReplyDelete
  6. pratiti kabitar modhye ki jeno ekta akarshan achhe......bar bar porte mn chaye....

    ReplyDelete
  7. তোমার লেখায় তারিফ করার ভাষা আমি খুঁজে পাই না ...অসাধারন...অনেক শুভেচ্ছা রইলো :)

    ReplyDelete
  8. sobar jonnyo amar bhalobasha roilo ....sobar bhalobashar jonnyo likhe cholechi

    ReplyDelete
  9. tomar lekha niye bolar kichu nei...osadharon...

    ReplyDelete
  10. kichu kichu lekha ache ja porle buji ba na bujhi keno jeno valo lege e jay. didir lekha thik temon mone holo amar. sobder kono kathinnota nei. besh valo laglo didi

    ReplyDelete
  11. tomar lekha alada matra enedey .

    ReplyDelete