ডঃ মহুয়া দাশগুপ্ত আদক


খুব সম্প্রতি লিখছি, প্রায় বছর দুয়েক হবে । প্রধানত ছন্দ কবিতা ও ছোট গল্প লিখতেই বেশী ভালোবাসি । “মনের কোণে নিজের কলম” ই-পত্রিকা ছাড়া, এখনও কোন প্রকাশনায় যায়নি আমার লেখা । এটাই আমার প্রথম সোপান ।
এই পরিবারের সাথে যুক্ত প্রায় এক বছর । ভালো লাগে, এখানে নির্দ্বিধায় নিজের মনের কথা কলমের আঁচড়ে সবার সাথে ভাগ করে নিতে পারি অবলীলায় । এখানকার উন্নত মানের পাঠককুল, উৎসাহ দেন আরও আরও লেখার... অনুপ্রাণিত করেন নিজের লেখার মান উন্নত করতে ।

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

তিন কন্যে

আমাদের পাড়ার প্রবীণ কবির তিন মেয়ে
যাতায়াতের পথে দেখা হয়,
চোখাচোখি হতেই, লাজুক হাসি
আর গতানুগতিক কথোপকথন,
তিন বোন যেন তিন টুকরো কাহিনী ।

বড় জন দীর্ঘাঙ্গী, শ্যামাঙ্গী সুন্দরী
অনেক পুরুষের বুকে কাঁপন ধরানোর মত রূপ ছিল তার,
সংসারের জোয়াল টানতে গিয়ে বহু লোকের মন জুগিয়ে চলেছে,
জীবনের প্রথম ভালোবাসা
ভুল বোঝার স্রোতে সরে গেছে অনেক দূরে,
“বহুভোগ্যা”-র দুর্নাম কুড়িয়ে একাকিনী কেঁদেছে,
অপমানিত, ক্লেদাক্ত হয়েছে বারবার
এই ভালমানুষ সাজা সমাজের কাছে,
কিন্তু চোখের জল মোছানোর “মনের মানুষ”-টির খোঁজ আজও পায়নি,
আজও অভিমানী মেয়ের ক্লান্ত পদক্ষেপ আমার কবিতাকে ছুঁয়ে যায় ।

মাঝেরটি গৌরাঙ্গী, তেজস্বিনী, প্রতিবাদী
দিদির মত নীরবে ভাগ্যের মার খাওয়ার পাত্রী সে মোটেও নয় !
বিয়ে হয়েছিল, ছেলেও আছে একটি,
কিন্তু ওই, অন্যায়কে মাথা নিচু করে মেনে নিতে পারেনি,
সুপুরুষ, বিখ্যাত স্বামীর পরনারী আসক্তি পছন্দ হয়নি ।
প্রতিবাদে কাজ হয়নি যখন, তখন প্রতিকার আর কি হবে ?
অতএব বিয়ের বন্ধন মনের বন্ধন হয়ে ওঠেনি,
স্বাধীনচেতা মেয়ে মাথায় সিঁদুরের ছাপ নিয়েই ফেরত এসেছে ।
মেয়ের চোখে আশার আলো, অনেক হারিয়েও জিতে যাবার স্বপ্ন,
অবাধ গতি মেয়ের চোখের পলকে তাই কবিতার ছন্দ দোলে ।

তৃতীয় মেয়ে আত্মসুখী, আদরিণী, কুসুমকলি যেন
লাবণ্যে, লালিত্যে, সৌন্দর্যের বিভায় ঝলমলে,
কিছুটা অবুঝ, আবেগে ভরপুর, ছটফটে, তবু স্বতন্ত্রে উজ্জ্বল,
বসন্তের ফুলের বনে মাতাল প্রজাপতির মতই উচ্ছল,
চেনা না চেনার দ্বন্দে দোলা মেয়ে তবু শঙ্কায় আবিল
দুই দিদির অভিজ্ঞতাতেই হয়তো সিঁদুরে মেঘ দেখতে পায় ।
চোখে তাই জহুরীর দৃষ্টি, ভালোবাসাও বুঝি যাচাই করে নেবে
কিম্বা কষ্টিপাথরে ঘষে মেপে নেবে তার খাঁটি রঙ !
সন্দেহ মেয়ের পায়ের পাতায়, সংশয় মেয়ের আলতো ছোঁয়ায়,
তবু তাকে নিয়েই সুর বাঁধে আমার আজকের জীবনমুখী কবিতা ।

ভালো কথা, বলতে ভুলে গেছি,
আমাদের পাড়ার প্রবীণ কবি, রবি বাবুর
তিন মেয়ের নামগুলোই তো এক একটি কাহিনীর উপক্রমণিকা,
ওরা তিন বোন - শ্যামা, চিত্রাঙ্গদা আর কমলিকা...!!

11 comments:

  1. vison sundor notun swader lekha

    ReplyDelete
  2. Sundor upostapona.....Kobik Suvechha

    ReplyDelete
  3. ভালো লাগানিয়া শুভেচ্ছা জানবেন শ্রীলেখা, মধুমিতা।।

    ReplyDelete
  4. খুব সুন্দর লাগল তোমার কবিতা.......শুভেচ্ছা রইল

    ReplyDelete
  5. দুর্দান্ত লিখেছো।।খুব ভাল লাগল।।শুভেচ্ছা নিও।।

    ReplyDelete
  6. বেশ লাগল............ তবে খোলা মনে বলি, কবিতা একটু কম লাগল, শব্দের বাঁধুনি নজর কাড়ল, আগামীতে আরও সুন্দর লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম। শুভেচ্ছা নেবেন।

    ReplyDelete
  7. খুব ভালো লাগলো ... শুভেচ্ছা রইলো :)

    ReplyDelete
  8. খুব খুব ভাল লাগ্ল

    ReplyDelete
  9. AAMI ILA......................................................................



    khub valo laglo .suvecha roilo

    ReplyDelete
  10. khub valo laglo, aaro porte chai

    ReplyDelete
  11. Mughdhota, Mughdota ebong mugdhota rekhe gelam.

    ReplyDelete