ঋতুপর্ণা সরকার


আমি মূলতঃ কবিতা লিখতেই ভালবাসি । অনুগল্প বা প্রবন্ধ লিখে থাকি । লিখছি অনেক ছোট থেকে, যেমন সবাই লেখে আর কি ! মন দিয়ে লেখা তিন বছর । মোটামুটি পরিচিতি পেয়েছি । কবিতা প্রকাশিত হয়েছে অদ্বিতীয়া নামে পত্রিকায় দুবার । “কফি হাউসের আড্ডা” নামক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে । লিটল ম্যাগাজিন মনন, সৌকর্য এবং বহু ই ম্যাগ এ প্রকাশিত হয়েছে কবিতা । “মনন” এর সম্পাদিকা ।
“মনের কোণে নিজের কলম”-এ এসেছি ৬ মাস হল । ভাল লাগে এখানকার আন্তরিকতা, খোলা হাওয়ার পরিবেশ 

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

স্বীকারোক্তি

আমার মুখস্থ হওয়া জীবনের বাইরেও একটা দিন আছে,
আছে রাত!
একটা আধ খোলা পাল্লার ফাঁক দিয়ে ছিটকে আসা রোদ্দুর কনারাও আছে...
আছে আমার বেড়ে ওঠা দিনগুলির প্রতি দায়,
আছে আমার হুল্লড়বাজ দাপুটে মুখটার পেছনে লুকিয়ে থাকা
ভীতু অন্ধকারকে ভয় পাওয়া গুটিসুটি মনটাকে হাত বুলিয়ে আদর করার ইচ্ছে !
আছে মাঝে মাঝে অবিশ্বস্ত হওয়ার লোভ!
দ্বিখণ্ডিত সত্ত্বাকে সামলাবার অনিচ্ছুক প্রয়াস,
বেশ সুবিধেবাদী হয়ে বেঁচে থাকার আড়ালে
নিজেকে প্রশ্ন করার স্পর্ধা......
আর এই এতোসব অন্য আমিগুলো জুড়ে জুড়ে তৈরি করে
যে প্রতিবিম্বের,
তার নেশায় বুঁদ হয়ে হাতড়ে খুঁজি আমি প্রতিদিন আমাকে,
যে আমি অভিযোজিত হবার ইচ্ছেয়
অবশেষে পরিনত হই এক ভাঙ্গাচোরা মিথ্যে রঙের স্থিরচিত্রে,
যদিও হৃদয়টা এত ক্রাইসিসেও এখন পর্যন্ত চলমান।

তুমি বলেছিলে আমি আলেয়া...

বিশ্বাস কর আমি আলেয়া নই!
আমিও নারী হয়ে
একদিন জড়িয়েছিলাম কোন পুরুষকে অথবা
বৃক্ষ!
সে মহান অনুভবে ফিরে যেতে চাই আমি
আবার প্রতিটি মুহূর্তে
আকাঙ্খার রাস্তায় পিছিয়ে গিয়ে!
সমাজ নির্দেশের বাইরে
আশ্লিষ্ট হয়ে জড়িয়ে ধরা......
আমার কবিতায় কি অনাবিল প্রবেশ করত
সেই অবুঝ যন্ত্রণা।
আর যদি সে সব নাও হত
তবুও আমার মনের উদ্দামতা, বন্য উচ্ছ্বাস হয়ত ভেসে আসত
কখনও অন্ধকারে
ছাতিমগাছের গন্ধ নিয়ে
ওথেলোর মত দমবন্ধ করা এক ছটফটে প্রতীক্ষা হয়ে!
প্রতীক্ষার শেষে আমি আসতামই তোমার কাছে
অবসর হয়ে
চাঁপা ফুলের মত
অথবা ভয়ঙ্কর মৃগতৃষ্ণা হয়ে,
তবুও আলেয়া হয়ে নয়।।

সমাধি

এবার কবিতা অবসর নেবে !
ক্লান্ত কলম বিস্মৃত হবে ছন্দ
অভিযোগ নেই আর
বোবা চোখে তাকিয়ে দেখবে
পূর্ণিমার চাঁদ ঘেঁসে বুলেটের ছুটে যাওয়া ।

কত দশকের কবি ছিল সে !
বিশু পাগলার কান্নার সাক্ষী !
সঙ্ঘারামে যখন বৌদ্ধ সঙ্গীত বাজত,
অথবা নবদ্বীপের রাঙ্গা ধুলোর কীর্তন এর আখরে
ব্রেনফিভার পাখির ডাকে
অথবা মিছিলের গান......
সব এসে মিশেছিল তাঁর কবিতার কালিতে
যা কখনও রুদ্রপলাশের রঙে লাল,
কখন মেঘের মত সুধুই ধূসর !
চেয়ে দেখো
সেই কালি আজ বর্ণহীন
অভিব্যাক্তিহীন,প্রেমহীন!
কবিতা আজ অবসর নিয়েছে
ওই কাঁটাতার, বেয়নেট,প্যাটন ট্যাঙ্ক আর ট্রেঞ্চ এর আড়ালে !



12 comments:

  1. asombhob bhalo laglo ...

    ReplyDelete
  2. ঋতু ঃ তোর লেখার আমি যে ভক্ত সে তুই জানিস। তুমি বলেছিলে আমি আলেয়া... এটা আমার কাছে একটা অন্য মানে রাখে।

    ReplyDelete
  3. Valo laglo........kobi k suvechha....

    ReplyDelete
  4. অন্যতম আধুনিক কবিতা ...... বড়ই আকর্ষনীয়

    ReplyDelete
  5. ঋতু সত্যি তোমার লেখায় খোলা হাওয়ার পরিবেশ
    অনুভুত হয়।।দারুন লাগল।।

    ReplyDelete
  6. খুবই বলিষ্ঠ কলম, আধুনিকতা আর কৌলীন্য দুটোই সমান ভাবে পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে। মুগ্ধতা রইল। শুভেচ্ছা নেবেন কবি।

    ReplyDelete
  7. অসাধারণ লেখা ... শুভেচ্ছা রইলো :)

    ReplyDelete
  8. সবাইকে ধন্যবাদ জানাই

    ReplyDelete
  9. aami ILA.......................................darun lsglo lekha , bisesoto ' tumi bolechile aami aaleya ' lekhati .

    ReplyDelete
  10. suvechcha roilo, valo laglo

    ReplyDelete
  11. Lekhar dhoron e bole dey pete kalir anchor ache. boro valo laglo didi, onek onek mugdhota rekhe gelam.

    ReplyDelete
  12. sotyi sundor......god bless u didi

    ReplyDelete